শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ : নতুনবাজারে সড়ক অবরোধ

বাংলাদেশ

সরকারি চাকরিতে কোটা সংস্কারের দাবিতে রাজধানীর নতুনবাজার মোড়ে সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করছেন বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় ইউনাইটেড ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির শিক্ষার্থীরা। আজ সোমবার (১৫ জুলাই) দুপুরে শিক্ষার্থীদের সড়ক অবরোধ করলে ওই এলাকায় যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়।

শিক্ষার্থীরা সড়কে অবস্থান নিয়ে কোটার বিরোধিতা করে বিভিন্ন স্লোগান দিচ্ছেন। ব্যস্ততম এই সড়কটি অবরোধ করে রাখায় সড়কের দুই পাশে শত শত যানবাহন আটকা পড়েছে।

শিক্ষার্থীদের আন্দোলন ঘিরে নতুনবাজার এলাকায় ব্যাপক পুলিশ সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। ঢাকা মহানগর পুলিশের বাড্ডা জোনের সহকারী পুলিশ কমিশনার রাজন কুমার সাহা বলেন, শিক্ষার্থীরা যেন সড়ক ছেড়ে চলে যান সেজন্য তাদের বোঝানো হচ্ছে।

দেশজুড়ে শিক্ষার্থীদের তুমুল আন্দোলনের মুখে ২০১৮ সালের ৪ অক্টোবর সরকারি চাকরিতে নারী কোটা ১০ শতাংশ, মুক্তিযোদ্ধা কোটা ৩০ শতাংশ এবং জেলা কোটা ১০ শতাংশ বাতিল করে পরিপত্র জারি করে সরকার। সেখানে বলা হয়েছিল, ৯ম থেকে ১৩তম গ্রেডের পদে সরাসরি নিয়োগের ক্ষেত্রে মেধার ভিত্তিতে নিয়োগ দিতে হবে।

ওইসব গ্রেডের পদে সরাসরি নিয়োগে বিদ্যমান কোটা বাতিল করা হলো। কোটা বাতিল করে সরকারের পরিপত্রের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে রিট করেন বীর মুক্তিযোদ্ধার সন্তান অহিদুল ইসলামসহ সাতজন। রিটের প্রাথমিক শুনানি নিয়ে ২০২১ সালের ৬ ডিসেম্বর রুল দেন হাইকোর্ট। চূড়ান্ত শুনানি শেষে গত ৫ জুন রুল অ্যাবসলিউট (যথাযথ) ঘোষণা করে রায় দেন হাইকোর্ট।

পরে হাইকোর্টের রায় স্থগিত চেয়ে রাষ্ট্রপক্ষের করা আবেদন চেম্বার আদালতে হয়ে আপিল বিভাগের পূর্ণাঙ্গ বেঞ্চে শুনানির জন্য ওঠে ৪ জুলাই। রিট আবেদনকারীপক্ষ সময় চেয়ে আরজি জানালে সেদিন আপিল বিভাগ শুনানি পিছিয়ে দেন। পাশাপাশি রাষ্ট্রপক্ষকে নিয়মিত লিভ টু আপিল (আপিলের অনুমতি চেয়ে আবেদন) করতে বলা হয়। এ অবস্থায় কোটা পুনর্বহালসংক্রান্ত হাইকোর্টের রায় স্থগিত চেয়ে গত মঙ্গলবার (৯ জুলাই) আবেদন করেন দুই শিক্ষার্থী।

দুই শিক্ষার্থী ও রাষ্ট্রপক্ষের করা আবেদন শুনানির জন্য গত ১০ জুলাই আপিল বিভাগে ওঠে।

শুনানি শেষে সরকারি চাকরিতে নিয়োগে কোটার বিষয়ে পক্ষগুলোকে স্থিতাবস্থা বজায় রাখতে আদেশ দেন আপিল বিভাগ। কিছু পর্যবেক্ষণ, নির্দেশনাসহ এ আদেশ দেওয়া হয়। এই স্থিতাবস্থা চার সপ্তাহের জন্য উল্লেখ করে আপিল বিভাগ আগামী ৭ আগস্ট পরবর্তী দিন ধার্য করেন।তবে আদালতের আদেশ প্রত্যাখ্যান করে আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দেন ‘বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের’ নেতারা। দাবি আদায়ে আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছেন তারা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *