কালীগঞ্জে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র হিজড়াদের দু’গ্রুপের সংঘর্ষ, আহত ১২

বাংলাদেশ

গাজীপুর কালীগঞ্জ উপজেলায় টাকা সংগ্রহ ও আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে হিজড়াদের দুই গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে দু’পক্ষের কমপক্ষে ১২ জন আহত হয়েছেন।  

বুধবার (৯ অক্টোবর) দুপুরে উপজেলার তুমলিয়া ইউনিয়নের সীমান্তে ও রূপগঞ্জ উপজেলার দাউদপুর ইউনিয়নের কলিঙ্গা বাজার এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

কালীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক জাবেদ কায়সার আহত একজনকে চিকিৎসা দেওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
তিনি বলেন, সন্ধ্যা ৬টার দিকে তৃতীয় লিঙ্গের সন্ধ্যা নামে একজন আহত হয়ে চিকিৎসা নিয়ে গেছে। বাকিরা অন্য জায়গায় চিকিৎসা নিয়েছেন। জানা গেছে, দুপুরে কালীগঞ্জ উপজেলায় বসবাসকারী হিজড়াদের একটি দল চাঁদা তোলার জন্য পার্শ্ববর্তী রূপগঞ্জ উপজেলার দাউদপুর ইউনিয়নের কলিঙ্গা বাজার এলাকায় যায়। সে সময় ওই উপজেলায় হিজড়ার একটি হিজড়া দলের নেতা কাজলী ও খাইরুনের নেতৃত্বে কালীগঞ্জে বসবাসকারী হিজড়াদের উপর অতর্কিত হামলা করে। ওই সময় দুপক্ষের ১২ জন আহত হয়। আহত একজন কালীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স চিকিৎসা নিলেও বাকিরা অন্যান্য ক্লিনিকে চিকিৎসা নিয়েছেন।

আহত হিজরা সন্ধ্যা বলেন, আমরা শীতলক্ষ্যা নদীর পশ্চিম পার্শ্বের এলাকায় টাকা-পয়সা উঠিয়ে চলি। এমতাবস্থায় শীতলক্ষ্যা নদীর পূর্ব পার্শ্বের এলাকার হিজরা কাজলী ও খাইরুনের নেতৃত্বে আমাদের উপর দেশীয় অস্ত্রে সজ্জিত হয়ে অতর্কিত হামলা চালায়। এই হামলায় কালীগঞ্জের রাত্রী, খুকিসহ ১০ জন হিজরা আহত হয়েছেন। তবে ওই পক্ষের কাজলী ও খাইরুন আহত হয়েছে বলেও জানান তিনি।

এ ব্যাপারে থানায় কোন অভিযোগ করেছে কিনা এমন এক প্রশ্নের জবাবে সন্ধ্যা হিজড়া বলে, থানায় কোন অভিযোগ করব না। দু’পক্ষই হিজড়া; তাই বসে আলোচনা করে মীমাংসা করে ফেলবো। এদিকে রূপগঞ্জ হিজড়া গ্রুপের কাজলী ও খায়রুন তাদের ব্যবহৃত মুঠোফোন একাধিকবার কল করলেও তারা রিসিভ করেননি, যে কারণে তাদের বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।

এ ব্যাপারে রূপগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) লিয়াতক আলী বলেন, এ ঘটনায় থানায় কেউ কোন অভিযোগ করেনি। তবে অভিযোগ করলে তদন্তপূর্বক আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

কালীগঞ্জ থানার ভার্রপাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আলাউদ্দিন বলেন, এ ব্যাপারে কোন অভিযোগ নিয়ে কেউ থানায় আসেনি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *