
গেল বছর এশিয়া কাপ ও ভারতে ওয়ানডে বিশ্বকাপের জন্য ব্যাপক প্রস্তুতি নিচ্ছিল টাইগার স্কোয়াড। সেখানের একজন গুরুত্বপূর্ণ সদস্য ছিলেন পেসার এবাদত হোসেন। তবে চট্টগ্রামে অনুষ্ঠিত হওয়া আফগানিস্তানের বিপক্ষে তিন ম্যাচ ওয়ানডে সিরিজের দ্বিতীয় ম্যাচে এই পেসার চোট পেয়ে ছিটকে যান মাঠের বাইরে। এলোমেলো হয়ে যায় টাইগারদের পরিকল্পনা। সেই থেকে মাঠের বাইরে।
কেটে গেছে প্রায় এক বছরের বেশি সময়। ধীরে ধীরে মাঠে ফেরার চেষ্টায় ঘাম বাড়াচ্ছেন এবাদত। প্রস্তুত করছেন নিজেকে। লক্ষ্য তার আসন্ন ভারত সফরে টাইগার শিবিরে যোগ দেওয়ার। বর্তমানে শান্ত বাহিনী অবস্থান করছে পাকিস্তানে। সেখানে খেলবে দই ম্যাচ টেস্ট সিরিজ। যার প্রথম ম্যাচ আগামী ২১ আগস্ট ও দ্বিতীয়টি ৩০ আগস্ট। এরপরই উড়াল দিবে ভারতের উদ্দেশে। সেখানে স্বাগতিকদের বিপক্ষে দুই ম্যাচ টেস্ট ও তিন ম্যাচ টি-টোয়েন্টি সিরিজ খেলবেন টাইগাররা।
আর এই সিরিজেই দলে ফেরার লক্ষ্য হিসেবে নির্ধারণ করেছেন এবাদত। এ প্রসঙ্গে গতকাল মিরপুরে গণমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে বলেন, ‘আমার লক্ষ্য আছে যেন ভারতের সঙ্গে খেলতে পারি। ভারতে যেহেতু দুইটা টেস্ট ম্যাচ আছে। নির্ভর করছে যে, টেস্ট ম্যাচ দিয়ে ফেরাটা কীরকম হবে, কতটুকু ইতিবাচক হবে। যেহেতু সামনে ভারত সিরিজ আছে, চেষ্টা করছি এর আগে যদি আমি টেস্ট ফিটনেসটা পেয়ে যাই। আমার কাছে মনে হয়, একটা সুযোগ আছে ভারত সিরিজের আগে নিজেদের মধ্যে একটা ফোর ডে ম্যাচ খেলার, ওখানে সুযোগ পেলে বিচার করতে পারব কতটুকু ফিট টেস্ট ম্যাচ খেলার জন্য।’
গত বছরের ৮ জুলাই আফগানিস্তানের বিপক্ষে দ্বিতীয় ওয়ানডের সময় পা হড়কে পড়ে যান ডানহাতি পেসার। বোলিং অসমাপ্ত রেখেই মাঠ ছাড়তে হয় তাকে। তবে প্রাথমিক পর্যবেক্ষণের পর জানানো হয়েছিল চোট গুরুতর নয়। সেসময় ধারণা করা হচ্ছিল এবাদতের সেরে উঠতে সময় লাগবে দুই থেকে তিন সপ্তাহ। সেই হিসেব করেই এবাদতকে এশিয়া কাপের স্কোয়াডে রাখা হয়। কিন্তু প্রত্যাশা অনুযায়ী উন্নতি হয়নি। পরে তাকে চিকিৎসার জন্য পাঠানো হয় লন্ডনে। সেই চোট থেকে সেরে উঠতে উঠতে তিনি মিস করেন দুটি গুরুত্বপূর্ণ বিশ্বকাপ।
এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘প্রায় এক বছরের বেশি সময় হয়ে গেল ক্রিকেট খেলতে পারছি না। ওয়ানডে বিশ্বকাপ মিস করলাম, টি- টোয়েন্টি বিশ্বকাপও মিস করলাম। যদিও অপারেশনের সময় ভাবতে পারিনি যে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ আমি মিস করব। কিন্তু বড় অপারেশন হওয়ার কারণে এত সময় লাগছে, এটা সত্যি কষ্টদায়ক।
ইনজুরির শুরুর দিকে ঠিকঠাক হাঁটতেই পারতেন না। এখন ওসব স্মৃতি। তবে এখনো কষ্ট দেয় এবাদতকে। তাই তা আর মনে করতে চান না এবাদত। তিনি বলেন, ‘এটা সত্যি কথা অনেক কষ্টের সময় ছিল। এটা মনে করতে চাইও না এখন। ঐ সময়টা এমন ছিল, সবসময় একা একা লাগত। কারণ আমি খেলোয়াড় হিসেবে সবসময় মাঠে থাকব, খেলব, এক তো হচ্ছে এই কষ্ট। দ্বিতীয়ত, আমি হাঁটতেই পারছি না। আমি একটু বাইরে যাব, কারো সঙ্গে দেখা করব কোনো সুযোগই ছিল না ঐ সময়টাতে। এটা আসলে অনেক কষ্ট, সত্যি কথা এটা মনে করতে চাই না।
